1876 খ্রিস্টাব্দে জি. কে গিলবার্ড ভৌগলিক ক্ষয়চক্রের আলোচনা সময় প্রথম Grade শব্দটি ব্যবহার করেন।
চেম্বারলিন ও স্যালিসবারি 1904 খ্রিস্টাব্দে প্রথম Gradation বা পর্যায়ন শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁদের মতে- পর্যায়ন বলতে বহির্জাত প্রক্রিয়াসমূহের সম্মিলিত ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের মাধ্যমে উঁচু নিচু ভূ-ভাগ অর্থাৎ ভূমির উপরিভাগের অনিয়মিত রূপরেখাকে একটি সাধারণ তলে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া।
সুতরাং, ক্ষয়ের শেষ সীমার সাপেক্ষে ভূপৃষ্ঠের সমতলিকরণ হল পর্যায়ন এবং অবরোহন ও আরোহন এই দুই প্রক্রিয়ার সম্মিলিত রূপ হল পর্যায়ন।
পর্যায়ন প্রক্রিয়া
অবরোহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন উঁচু ভূমি ভাগের উচ্চতা হ্রাস পেতে থাকে। ক্ষয়ীত পদার্থসমূহ পরিবেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা বাহিত হয়ে কোন নিচু ভূমিভাগে সঞ্চিত হয় এবং উচ্চতা বৃদ্ধি করে। একে আরোহন প্রক্রিয়া বলে। এইভাবে পর্দানের মাধ্যমে ভূমির সমতলীকরণ ঘটে ও পর্যায়িত ভূমিরূপ গঠিত হয়।
বৈশিষ্ট্য:
১) পর্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় হল- আবারোহন প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপের ক্ষয়সাধন।
২) দ্বিতীয় পর্যায়ে- ক্ষয়ীভূত অংশ স্থানান্তরিত হতে শুরু করে।
৩) তৃতীয় পর্যায়ে- আরোহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষয়ীভূত পদার্থ সঞ্চিত হতে শুরু করে।
৪) চতুর্থ পর্যায়ে- ভূমিরূপ ভারসামযুক্ত সুষম ঢালে পরিণত হয়।
৫) এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া।
৬) পর্যায়ন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমিরূপকে বলা হয় পর্যায়িত ভূমিরূপ।




