বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে ও বৈশিষ্ট্য

বহির্জাত প্রক্রিয়া যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Exogenetic Processগ্রিক শব্দ Exo কথাটির অর্থ বহির্ভাগ থেকে এবং Genesis শব্দটির অর্থ উৎপত্তি। অর্থাৎ Exogenetic Progress কথাটির অর্থ বহির্ভাগ থেকে উৎপত্তি প্রক্রিয়া।

সংজ্ঞা

বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিগুলি যেমন- সূর্যতাপ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ, ভৌমজল, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতির ফলে যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির মাধ্যমে ভূমিরূপের নানান বিবর্তন ঘটে এবং ভূপৃষ্টে নানা ভাস্কর্যের সৃষ্টি করে তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে।

বৈশিষ্ট্য

১) এটি ভূ-ভাগের উপর ক্রিয়াশীল ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়া।

২) জলবায়ু উপাদান, নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রস্রোত, জোয়ার ভাটা, ভৌম জল প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা সংঘটিত।

৩) এটি অতি ধীর প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে হয়ে থাকে।

৪) এই প্রক্রিয়ায় অবক্ষেপণের মাধ্যমে ভূ-ভাগের উচ্চতা বৃদ্ধি বা ক্ষয়ের মাধ্যমে উচ্চতা হ্রাস পায়।

৫) বহির্জাত প্রক্রিয়ার কার্যকারী প্রধান শক্তি হল সূর্য।

৬) বহির্জাত প্রক্রিয়া তিনটি প্রকারভেদে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যথা- অবরোহন, আরোহণ ও জৈবিক প্রক্রিয়া।

মাধ্যম সমূহ

i) স্থিতিশীল প্রাকৃতিক শক্তি:

উষ্ণতা, বায়ুর চাপ, আদ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত, শিশির ইত্যাদি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান।

ii) গতিশীল প্রাকৃতিক শক্তি:

নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি।

iii) নগ্নীভবন:

বহির্জাত অবরোহন প্রক্রিয়ায় আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবন এই তিনটি পদ্ধতির যৌথ ক্রিয়াশীলতায় ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের শিলাস্তর ভূপৃষ্ঠে উন্মুক্ত হয়, তাই অবরোহন প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলে।
অর্থাৎ, নগ্নীভবন= আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় +ক্ষয়ীভবন

বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে ও বৈশিষ্ট্য
বহির্জাত প্রক্রিয়ার প্রকারভেদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *